ইতালির দক্ষিনাঞ্চলীয় শহর টারান্টোতে এক ভয়াবহ ঘটনার জন্ম হয়েছে।খালুর হাতে মৃত্যুর পর ধর্ষনের শিকার হতে হয়েছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে।লোমহর্ষক এই ঘটনার পর সমস্ত ইতা্লিতে  ছি ছি রব পরে গেছে।মিডিয়ার খবর এবং পত্রিকা গুলোর এখন প্রধান খবর এই লোমহর্ষক ঘটনাটি।মানুষের বর্বরতার সীমা যে কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে এই ঘটনা তারই প্রমান বহন করে।

সারাহ স্কাচ্ছি(sarah scazzi)।১৫ বছরের টগবগে কিশোরী।গত ২৬ শে আগষ্ট ২০১০ বাসা থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি।অভিভাবকরা অনেক খোঁজা খুজির পরেও না পেয়ে স্থানীয় কারাবিনিয়েরী(carabiniyeri) পুলিশকে তা জানানো হয়।মাঠে নামে পুলিশ কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধানেও কোন কূল কিনারা করতে পারেনি তারা।অভিভাবক বাধ্য হয়ে টিভি চ্যানেলে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যেখানে আবেদন করা হয় কেউ সারাহকে দেখে থাকলে কিংবা খোঁজ জেনে থাকলে তা তাদেরকে জানানোর জন্য।মর্মভেদি সেই আবেদনে টনক নড়ে সরকারের উপর লেভেলের।শুরু হয় নতুন করে তদন্ত।

SARAH SCAZZI

তদন্তে নামে CARABINIERI র স্পেশাল ব্রাঞ্চ।অনেক অনুসন্ধানের পর বেরিয়ে আসে আসল সত্য।শিউরে ওঠে সভ্য সমাজ।গ্রেফতার করা হয় ঘটনার মূল হোতা খালু নামধারী জানোয়ারটিকে যার নাম মিখেলে মিসশেরি(MICHELE MISSERI).৫৭ বছর বয়সের এই জানোয়ারটিকে গ্রেফতারের পর মিডিয়ার কাছে সে খুলে বলে তার লোমহর্ষক কাহিনী।

 

 

MICHELE MISSERI মিডিয়ার সামনে

ঘটনার বিবরনিতে জানা যায় ২৬ শে আগষ্ট মিখেলে মিসশেরি সারাহকে টেলিফোন করে বাসায় আসতে বলে।পিত্র তুল্য খালুর ফোন পেয়ে সারাহ কোন কিছুর চিন্তা না করে সরাসরি চলে যায় পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত খালুর বাসায়।ঘটনাক্রমে বাড়িতে কেউ ছিলো না।খালু তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে যায় নির্জন পাহাড়ের উপর বেড়ানোর কথা বলে।সেখানে প্রথমেই সারাহকে গলা টিপে মেরে ফেলে সে।এর পর বিকৃত রুচির এই বৃদ্ধ তার মনোবাসনা চরিতার্থ করে।আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ফেলে সারাহর পরনের জামা কাপড়।এরপর পাহাড়ের একটি গর্তে সারাহকে ফেলে পাথর চাপা দিয়ে রাখে।মৃত সারাহ সেখানেই ছিলো ৪২ দিন।খুনী মিখেলে মিসশেরির মুখে কাহিনী শুনে চমকে ওঠে ইতালিবাসী।সভ্য যুগে বর্বর এই কাজটিকে তারা ঘৃনার সাথে প্রত্যাখান করে।এমনকি জেল খানার বিভিন্ন কয়েদি যারা সাজা প্রাপ্ত তারাও ঘটনাকে ঘৃনার সাথে প্রত্যাখান করে বলাবলি করে ……বাচ্চাকে এই সেলে পেলে শাস্তির ব্যবস্থা আমরা করবো।

পুলিশের বিশেষ টিম পাহাড়ের উপর জঙ্গলের গর্ত থেকে সারাহর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পোষ্টমর্টেমের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

আমাদের বাংলাদেশে খুন,ধর্ষন অহরহ ঘটনা।কিন্তু খুনের পর ধর্ষন এমন কাহিনী বোধহয় বিরল।বিশেষ করে ইউরোপের মত সভ্য দেশে যা কল্পনাও করা যায় না।কাহিনী যে দেশেরই হোক এমন লোমহর্ষক ঘটনা বিবেকবান মানুষকে চিন্তিত না করে পারেনি।সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে দাবীদার আমরা মানুষরা যে জানোয়ারকেও হার মানাচ্ছি তা বোধহয় অস্বীকার করার আর কোন উপায় রইলো না।

হাস্যোজ্বল এই কিশোরী মেয়েটি আর কোনদিন কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুলে যাবে না।